Showing posts with label সাত ভাই(Babbler). Show all posts
Showing posts with label সাত ভাই(Babbler). Show all posts

ভ্যাদা টুনি

চরিত্রে অতি নিরীহ। চালচলনে একটা ধীরস্থির ভাব। মায়াবী চোখে করুণ চাহনি। স্বভাবে নম্রভদ্র। সব মিলিয়ে একটা বোকাসোকা ধরনের পাখি। নাম তাই ‘ভ্যাদাটুনি’। এটি বাগেরহাটের স্থানীয় নাম। এ নাম প্রাণিবিদ মনিরুল খান তাঁর লেখা একটি বইয়ে উল্লেখ করেছেন।

চার রকম সুরে গান গাইতে পারে এরা। বাজাতে পারে চমৎকার লম্বা লয়ের শিস। কী রকম মিষ্টি সুরেলা যে গলাটা! কী দারুণ, করুণ! খুব ভোরে এক জায়গায় বসে ডাকবে একটানা অনেকক্ষণ। ভোরের ডাকটা হয় ‘টুইটি-ট-টু-টিট টিট’। গলায় আছে দারুণ কারুকাজ।
ভোরের গান সমাপ্ত করে জোড়া ধরে বেরোবে খাবারের সন্ধানে। অপেক্ষাকৃত নিচু ঝোপঝাড়, নারকেল-সুপারির পাতায় জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে অ্যাবোক্র্যাটদের মতো পোকা-পতঙ্গের সন্ধান করবে। খুব কাছে গেলেও ভয় পায় না, ওড়ে না সহজে। এ জন্য ক্বচিৎ এরা পোষা বিড়াল, বেজি ও বনবিড়ালের কবলে পড়ে। সোনাব্যাঙগুলোও লাফ দিয়ে ধরে ফেলে। পানের বরজ এদের অতিপ্রিয় চারণক্ষেত্র। অন্য কোনো পাখির সঙ্গে এরা কখনো ঝগড়া-ফ্যাসাদ করে না।
গ্রীষ্মকালে বাসা করে নিচু ঝোপঝাড়ের ভেতরে। ডিম প্রায় সময়ই পাড়ে চারটি। ক্বচিৎ পাঁচটি। বাসা বাঁধার গান আছে এদের—আছে ডিম পাড়ার গান। আহা, কী করুণ সুরেলা গান! এরা অনেক সময় এমন সব আশ্চর্য-অবিশ্বাস্য জায়গায় বাসা করে, দেখলে অবাক হতেই হয়।
ভ্যাদাটুনির ইংরেজি নাম Abbott’s Babler। বৈজ্ঞানিক নাম Malacocincla abbotti। মাপ ১৭ সেন্টিমিটার। সারা দেশেই দেখা মেলে এদের।

শরীফ খান |  ছবি: শিহাব উদ্দিন

Read More

দাগি ছাতারে

দাগি ছাতারে সামাজিক পাখি। এরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। এক দলে ১২টি পাখি। চলেও দলবদ্ধভাবে। দলনেতা আছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে দলের প্রথম পাখিটি যে দিকে উড়ে যাবে, অন্যরা তাকেই অনুসরণ করবে। কেউ পথ হারালে অন্যরা ডাকাডাকি করে তাকে পথ চিনতেও সাহায্য করে। এসব বৈশিষ্ট্য দর্শককে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি পাখিটি চিনতেও সাহায্য করে।

একেকটি দলের নির্দিষ্ট টেরিটরি বা বিচরণ এলাকা থাকে। প্রধানত নদী, খাল, লেক বা জলাশয়ের কাছাকাছি ঘাস-ভূমি, ঝোপ, আখখেত, নলবনে এ পাখিরা বসবাস করে। প্রধানত পোকামাকড়, ছোট শামুক এবং মাঝেমধ্যে গাছের কচি পাতা খায়। এরা কম উড়তে পারে। বরিশাল, শেরপুর, সাতক্ষীরা, পদ্মার চর (মাওয়া, মুন্সিগঞ্জ), সুনামগঞ্জ জেলায় কয়েকবার দাগি ছাতারে পাখির দেখা পেয়েছি। প্রত্যেকবারই দলবদ্ধভাবে চোখে পড়েছে।
দাগি ছাতারে মাঝারি আকারের দুর্লভ পাখি। লেজ লম্বা। দেহের দৈর্ঘ্য চার ইঞ্চি। পালক মেটে বাদামি, তার ওপর কালচে বাদামি রেখা থাকে, যা মাথা, ঘাড়, পিঠ হয়ে লেজের আগ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। চোখের মণি হলুদ, ঠোঁট হালকা হলুদ, পা সিসা রঙের ও নখর গোলাপি। প্রজননের সময় মার্চ থেকে অক্টোবর। পানির কাছাকাছি নিচু ঝোপে, ঘাসবনে বাসা বানায়। বাসার উপকরণ ঘাস, লতাপাতা। বাসা গোলাকার ও মজবুত। তিন-চারটি ডিম পাড়ে, রং ফ্যাকাশে নীল। দলের সব পাখি ছানাদের দেখভাল, আদর-যত্ন করে।
বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমারে পাখিটি দেখা যায়। নলবন, প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় বিনাশের ফলে পাখিটি সংখ্যায় কমে যাচ্ছে।

সৌরভ মাহমুদ | প্রথম আলো

Read More

সাত ভাই চম্পা

সাত ভাই চম্পারা সাধারনত এক সঙ্গে ৬/৭ জনে দল বেঁধে ঘুড়ে বেড়ায় আর তাই হয়তো আমাদের নাম হয়েছে সাত ভাই চম্পা। কথিত আছে এদের দলে ছয় ভাই ও এক বোন যার নাম চম্পা।

এর মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত মিলিয়ে প্রায় ২৫সে.মি বা ১০ ইঞ্চি লম্বা, শালিকের মতোই; তবে আকারে একটু বড়। স্ত্রী-পুরুষ একই রকম দেখতে, তফাৎ করা যায় নঅ। পিঠের সব পালক মলিন ধুলোমাটি বা ফিকে কটা কিংবা ছেয়ে রং। কিছু কিছু পালকের রং গাঢ়। লেজ চওড়া ও লম্বাটে, প্রায় ডানার মাপের। গায়ের পালক আপদামস্তক ছাই ও খয়েরি রংয়ে মিশ্রিত। চোখে হলুদ বৃত্তের মাঝখানে কালো ফোঁটা।ঠোঁট ও পা হলদেটে। পালকগুলো যেন ঢিলেঢালা, কোনমতে লেগে আছে, ডানা ছোট বলে এবং প্রায় লেজের সমান বলে ভালো উড়তে পারে না। অল্প দূরে এ গাছ থেকে ওগাছে পরপর দলের সবাই একে একে উড়ে যাওয়াটা এদের চারিত্র্য। মাটিতে নামবে লোকজন বা প্রাণী আশেপাশে না থাকলে, নিরাপদ মনে করলে। তখন প্রত্যেকটি পাতার নিচে খুঁজবে কোথায় পোকা লুকিয়ে আছে। আর তারা মৃদুস্বরে পরস্পরে কলরব বা ঐকতান করেই চলে। এরা সাধারণত ফলফলাদি,কীট-পতঙ্গ,ফুলের মধু খেয়ে বেচে থাকে।
সাত ভাই চম্পা সাধারণত বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্থানে দেখা যায়। এর অন্য নাম ছাতারে, ছাতারিয়া বা সাত ভাই। ইংরেজিতে সেভেন সিস্টার্স, হিন্দিতে সাত বহিন, ঘোঙ্গগাই, কাচবাচিয়া, ফিঙ্গিয়া ময়না।

এর ইংরেজী নাম Jungle Babbler ও বৈজ্ঞানিক নাম Turdoides striata (টাউয়িডেস স্ট্রাইয়াটাস)।

Read More