Showing posts with label মৌটুসী(Sunbird). Show all posts
Showing posts with label মৌটুসী(Sunbird). Show all posts

নীল টুনি

এরা দুর্গাটুনটুনি, বেগুনটুনি, মধুচুষকি নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Purple Sunbird এবং বৈজ্ঞানিক নাম Cinnyris asiaticus। টুনি একরত্তি পাখি। ঠোঁটের ডগা থেকে লেজের প্রান্ত পর্যন্ত মাত্র ১০ সেন্টিমিটার লম্বা, যার মধ্যে শুধু ঠোঁটটিই ৪ সেন্টিমিটার। রঙের কী বাহার! দূর থেকে পুরুষ পাখি বা নীল টোনাকে একদম কালো দেখায়। কিন্তু কাছে এলে বোঝা যায়, এর রং গাঢ় নীল। রোদ লাগলে তা দেখায় উজ্জ্বল ধাতব বেগুনি-নীল। মাথা-পিঠ ধাতব বেগুনি; বুক বেগুনি-কালো। বুক ও পেটের মাঝখানে পিঙ্গল ও লালচে রিং থাকে। কালো যে কত সুন্দর হতে পারে, তা টোনাকে না দেখলে বোঝা যাবে না। তবে এই রূপ শুধু বাসা বাঁধা ও ডিম পাড়ার মৌসুমেই। ছানারা বাসা ছেড়ে উড়ে যাওয়ার পর থেকে এই নীলচে বেগুনি ও কালো রং আস্তে আস্তে ফ্যাকাশে হতে থাকে। টোনা এত সুন্দর হলেও টুনি ততটা সুন্দর নয়। টুনির পিঠ হলুদাভ বাদামি। নিচের অংশ হালকা হলুদাভ। লেজ ধূসর কালো।
নীল টোনা গানের পাখি। চমৎকার সুরে গান গায়। ভোরে সব পাখির আগে এরা মধুর কণ্ঠে ঘুমভাঙানি গান গেয়ে ওঠে। টোনা মিষ্টিমধুর চি-হুইট-চি-হুইট-চি-হুইট স্বরে গান করে। টুনি সাধারণত নীরব, স্বরও বেশ কর্কশ।
হামিং বার্ডের মতো এরাও বাতাসে স্থির থেকে উড়তে পারে। বাতাসে ঢেউ খেলিয়ে আলোর ঝিলিকের মতো এগাছে-ওগাছে, এ ফুল থেকে ও ফুলে উড়ে উড়ে মধু পান করে। খুব চঞ্চল। ফুলের বোঁটার ওপর বসে বাদুড়ের মতো ঝুলে পড়ে মধু পান করে। মধুর অভাবে ছোট ছোট পোকামাকড়ও খেতে পারে।
শীত ও বসন্তেই প্রধানত বাসা বানায় এবং ডিম পাড়ে। সাধারণত গেরস্তবাড়ির আঙিনায় বরই বা ডালিমগাছের চিকন ঝুলে পড়া ডালে বা লাউ-শিমের লতানো গাছের ডগায় বাসা বাঁধে। গেরস্তবাড়ির আশপাশ ছাড়া এরা বাসা বাঁধতেই চায় না। মানুষের সান্নিধ্য চাই-ই চাই। তবু সচরাচর তা চোখে পড়ে না, তার কারণ হঠাৎ দেখলে বাসাটাকে ঝোপ-জঙ্গল ছাড়া অন্য কিছু মনে হয় না। শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পেতেই এ ধরনের ছদ্মবেশী বাসা।
এদের বাসার গড়ন ও সাজসজ্জায় রুচি ও বিলাসের ছাপ স্পষ্ট। সৌন্দর্য ও প্রকৌশলগুণে বাবুইয়ের পরই এদের বাসার স্থান। বাসাটা দেখতে অনেকটা থলের মতো। মাকড়সার জাল দিয়ে এর ভিত রচনা করা হয়। প্রবেশপথ ওপরের দিকে। প্রবেশপথের মুখের ওপর সানশেডের মতো থাকে। বৃষ্টির পানি আটকানোর জন্যই হয়তো এ ব্যবস্থা। বাসায় ডিম ও বাচ্চা রক্ষার জন্যও সব ধরনের ব্যবস্থা আছে। এরা বাসার ওপর ফুলের পাপড়ি মাকড়সার আঠা দিয়ে সেঁটে দেয়। ভেতরে ডিম রাখার জন্য থাকে কোমল বিছানা। বাসাটি ঝোপঝাড়-লতার সঙ্গে ভালোভাবে আটকানো থাকে, বাতাসে দোলে। বাতাসের সময় ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিচের দিকে মাকড়সার জাল ও লতাপাতা সুতোর মতো ঝোলানো থাকে।
নীল টুনি প্রতি মৌসুমে নতুন বাসা বানায়। তবে বাসা শক্তপোক্ত থাকলে দু-তিনবারও ব্যবহার করতে পারে। আমার বাসার কাঁঠালগাছে একবার এমনটি ঘটেছিল। বাসার জায়গা পছন্দ করা এবং বাসা তৈরির পুরো দায়িত্ব টুনির। টোনা মাঝে মাঝে এসে কাজ তদারক করে এবং আনন্দে গান গায়। টুনি দু-তিনটি ধূসর বা সবুজাভ সাদা ডিম পাড়ে। এর ওপর থাকে বাদামি ছোপ। টুনি বাসায় বসে যখন ডিমে তা দেয়, তার লম্বা ছুঁচালো ঠোঁটটি দরজার মুখে বেরিয়ে থাকে। টোনা কখনোই ডিমে তা দেয় না। ডিম ফোটে ১৪-১৫ দিনে। তখন টোনার কী আনন্দ! ক্ষণে ক্ষণে ডাকতে থাকে। টোনা-টুনি উভয়ে বাচ্চাদের খাওয়ায়। ছানা ১৬-১৭ দিনে বড় হয় এবং বাসা ছাড়ে। বাসা ছাড়ার পরও এরা সপ্তাহ দুয়েক বাবা-মায়ের সঙ্গে সঙ্গে থাকে। একসময় নিজেরাই ঘর বাঁধে। নীল টুনিরা আট থেকে ১২ বছর পর্যন্ত বাঁচে।

আ ন ম আমিনুর রহমান | | প্রথম আলো

Read More

মোচা টুনি

বাঁকানো ও লম্বা সুচ-ঠোঁটের ছোট এই পাখির দেখা সারা দেশেই মেলে। দ্রুতগামী, বলা যায় তীরের ফলার মতো গতি। বন-বাগান তথা ঘন নারকেল-সুপারি বাগানের ভেতর দিয়েও দ্রুত গতিতে ওড়ে। ওড়ার ধরনটা শৈল্পিক। রংধনুর বাঁকের মতো অনেকটা। যে পথ ধরে উড়ে যাবে, সেই পথটাতে যদি একটা কাল্পনিক রেখা টানা যায়, তাহলে সেটা হবে অসংখ্য রংধনুর বাঁকের মতো। ডানা মেলে এক ধাক্কায় সামনে এগোবে ২০-৩০ ফুট, তারপর ডানা থাকবে বোজানো, তাই নিচের দিকে নেমে আসবে অনেকটাই, আবারও ডানা মেলে সামনের দিকে এক ধাক্কা, এভাবেই উড়বে। জোরালো ধাতব শব্দের মতো কণ্ঠ। ডাকটা প্রায় ‘টেক টেক’ ধরনের। ওড়ার পথে থেমে থেমে ডাকবে। বন-বাগানের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেলেও ডাক শুনে শনাক্ত করা যাবে। এত যে দ্রুত গতি, তবু থমকে যেতে পারে অবিশ্বাস্য দ্রুততায়, নামতে পারে অভীষ্ট লক্ষ্যে। সমভূমি অঞ্চলে এদের অভীষ্ট মূলত কলার মোচা তথা কলাফুলের মধু। সমতলে এরা বলতে গেলে পুরোপুরি কলাগাছনির্ভর। কলাফুলের মধুরেণু এদের এক নম্বর খাবার। বাসা করে কলাপাতার ছাতার তলায়। রাতের আশ্রয়টাও নেয় প্রায় সময়েই কলার মোচার খোলা বা ছাতার তলায়। শিলাপাত হলে, জোর বৃষ্টি নামলে অথবা শীতের শিশির থেকে বাঁচার জন্য কলার মোচার ছাতার তলাটাই বেশি পছন্দ এদের। বৃষ্টি বা শিশিরে ভিজতে হয় না। কলার কাঁদির ফাঁকে বা ওপরেও আশ্রয় নেয় এরা। কলার পাতার ওপরে বসতে এরা খুবই ভালোবাসে। পাশাপাশি কলা বেশি পেকে গেলে অথবা অন্য ফলখেকো পাখিরা কলা খেতে শুরু করলে এরাও লম্বা সুচ-ঠোঁট কলার ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে পাকা কলার রস টেনে পান করে। আর মোচায় উল্টো হয়ে ঝুলে, কী নান্দনিক ভঙ্গিতে যে নলাকৃতি কলাফুল থেকে রস পান করে! সব কটি নল চাখা হয়ে গেলে দেয় উড়াল।

মূল খাদ্য এদের কলাগাছের ফুলের মধু। বিশাল একটা এলাকার কলাফুলের সন্ধান জানা থাকে এদের। এ ছাড়া মাকড়সাসহ ছোট পোকামাকড়ও খায়। তাল-খেজুরের রস অতি প্রিয় পানীয়। বাসার কাছে শত্রু গেলে বা বিপদ বুঝলে অথবা বুকে আনন্দ জাগলে এরা এক জায়গায় বসে দুই ডানা কাঁপিয়ে কাঁপিয়ে চরাচর জুড়ে দ্রুতলয়ে ডাকে। ঝড়ে কলার পাতা ছিঁড়ে গিয়ে বাসা-ডিম নষ্ট হলে শোকে কাঁদে এরা। কান্নার ভাষাটা আবার অন্য রকম। পরাগায়নে এরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
মোচাটুনির ইংরেজি নাম Little spider hunter। বৈজ্ঞানিক নাম Arachnothera Longirostra। শরীরের মাপ ১৬ সেন্টিমিটার।
শরীফ খান | প্রথম আলো

Read More

মৌটুসী

বাংলাদেশের ছোট পাখিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মোটুসী। এদেশে ১১ ধরনের মৌটুসি পাখি দেখা যায়।
আকার আকৃতিতে খুবই ছোট। সাধারনত ফুলের মধু খেয়ে থাকে। স্ত্রী পাখির গায়ের রঙ ফ্যাকাসে হয়।


লিখেছেনঃ আমিরুল সাইফি

Read More

হামিং বার্ড

পৃথিবীর সবচেয়ে ছোটো পাখিটি হচ্ছে হামিং বার্ড। এর ওজন মাত্র ১.৮ গ্রাম আর দৈর্ঘ্য ৭.৫ সেন্টিমিটার(3.5")। তবে মজার বিষয় হচ্ছে পুরুষ হামিং বার্ড গুলো কিন্তু আকারে মেয়ে হামিং বার্ড থেকে ছোটো হয়ে থাকে। শুধু আকারে নয় আরো পার্থক্য আছে মেয়ে এবং পুরুষ হামিং বার্ডের মধ্যে।
পুরুষ পাখি গুলোর লোম সবুজ রঙের হয়। এদের পাখা গুলো উপরের দিকটা নীল বর্ণের আর শরীরের নিচের দিকটা বেশিরভাগ সময় ধূসর সাদা হয়ে থাকে। অপরদিকে মেয়ে পাখিদের মাথার ওপরের দিকটা নীলচে সবুজ রঙ এর হয়, সরু লেজটিতে থাকে সাদা রঙের ফোটা ফোটা দাগ। হামিং বার্ড যে শুধু তার রঙের জন্য বিখ্যাত তা কিন্তু ভেবো না। ছোটো হলে কি হবে এদের শরীরে কিন্তু অনেক শক্তি আছে। হেলিকপ্টার যত উঁচুতে উড়ে হামিং বার্ডও ঐ উচ্চতায় উঠতে পারে। আর সবচেয়ে অবাক করার মত বিষয় হলো এরা প্রজাতিভেদে সেকেন্ডে ১২ থেকে ৯০ বার নিজেদের পাখা নাড়াতে পারে। এ কারণেই চোখের পলকে অনেকটা দূরে চলে যেতে পারে হামিং বার্ড। সাধারণত এদের ওড়ার গতি ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার। মজার ব্যাপার হলো এরা কেবল সামনে নয়, পেছন দিকেও উড়তে পারে।
তবে উঁচুতে উড়তে পারলেও এরা অনান্য পাখিদের মত হাঁটতে পারে না। দেহের আকার ছোটো এবং সেই সঙ্গে তাদের ডানাগুলো বেশ বড়ো হয় বলে হামিং বার্ড বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। খাবার দাবারের বেলায় হামিং বার্ড একটু এগিয়েই রয়েছে অন্য সবার তুলনায়। কারণ এরা সারাদিন খায়। ছোটোগুলো মায়ের দেয়া খাবার খায় আর বড়োগুলো খায় ফুলের মধু। সারাদিন কেবল এই ফুল থেকে ঐ ফুলে ঘুরে বেড়ায় হামিং বার্ড।
আমাদের মতো এদেরও কিন্তু রঙের পছন্দ অপছন্দ আছে। এরা লাল রঙের ফুল বেশি পছন্দ করে। তাই বেশির ভাগ সময় হামিং বার্ড লাল রঙের ফুল থেকেই মধু সংগ্রহ করে থাকে। মধু খাবার সঙ্গে সঙ্গে এরা গাছেরও কিছু উপকার করে দেয়। কারণ হামিং বার্ড যখন ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় তখন এদের পায়ের এবং পাখার সঙ্গে ফুলের রেণু জড়িয়ে যায়। এতে গাছের পরাগায়ণ ভালো হয়। এই কাজগুলো সাধারণত করে থাকে মৌমাছি। মৌমাছির সঙ্গে এদের স্বভাবের মিলের কারণে অনেকেই হামিং বার্ডকে বড়ো মৌমাছি বলে থাকে। হামিং বার্ড দিনে প্রায় ১৫০০ ফুলের মধু সংগ্রহ করে থাকে।
বাসা বানানোর ব্যাপারে পুরুষ পাখিগুলোর কোনো মাথাব্যাথা নেই। এই কাজ মেয়ে পাখিগুলোকেই করতে হয়। বাসা তৈরি করার জন্য এরা মাকড়সার জাল, গাছের বাকল এবং বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক ব্যবহার করে। বাসার আকার দেখতে হয় ঠিক কাপের মতো। একটি মেয়ে হামিং বার্ড এক সঙ্গে দুইটি ডিম পাড়ে। এদের ডিমগুলো এতই ছোটো যে দেখলে শস্য দানা মনে হয়। মা পাখিটি ডিমগুলো তার ছোট্ট বাসায় রাখে।
পৃথিবীর সবচেয়ে ছোটো এই পাখিটি বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। এদের গড় আয়ু ৩ থেকে ৫ বছর হয়।
লিখেছেনঃ সুমনা হক
ছবিঃ Rutgers Leslie & Google Search Result

Read More