Showing posts with label পেঙ্গুইন(Penguin). Show all posts
Showing posts with label পেঙ্গুইন(Penguin). Show all posts

পেঙ্গুইন

ডিসকভারি বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলের দৌলতে আমরা সবাই পেঙ্গুইন পাখি দেখেছি। ঠাণ্ডা জলবায়ুর দেশে বিশেষত বরফঢাকা মেরু প্রদেশে সাধারণত এদের বসবাস। পুঁচকে সাইজের এই পেঙ্গুইন পাখিগুলোর হাবভাব বেশ মজার। টিভি চ্যানেলগুলোতেই দেখি কিরকম যেন গম্ভীর মেজাজে সারাক্ষণ দুরন্তপনা করছে এই পাখির দল। সবচেয়ে অদ্ভুত এদের দু'পায়ে খাড়া হয়ে চলাফেরা করার ধরন। কখনও দিগন্তবিস্তৃত সাদা বরফ মোড়া রাজ্যে হৈচৈ করে বেড়াচ্ছে, আবার কখনও বা ঝাঁপিয়ে পড়ছে কনকনে ঠাণ্ডা নীল সমুদ্রের জলে। সমুদ্রের হিমশীতল ঠাণ্ডা জলে নরম গা ভিজিয়ে আমেজ নিচ্ছে পেঙ্গুইনের দল। এদের আরো একটা বিশেষত্ব রয়েছে সেটা হলো_ এরা সব সময় ঝাঁক বেঁধে বসবাস করতে ভালোবাসে। সাধারণত দেখবে একই জায়গায় কাতারে কাতারে পেঙ্গুইনের দল ছুটোছুটি করে বেড়াচ্ছে। মূলত শীতপ্রধান দেশের এই পাখি সম্পর্কে এতক্ষণ যা বললাম তার প্রায় বেশিরভাগই তোমাদের জানা। আসলে বিজ্ঞানীরা অতি সম্প্রতি এই পক্ষীকুলের এক প্রতিনিধির জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন। আর সেই ঘটনার পরেই ছোটখাটো এই প্রাণীটি সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে। আর সেসব কথা বলতেই আজ আমি তোমাদের জন্য খাতা-কলম নিয়ে বসেছি। সবাই না হলেও তোমাদের অনেকেই পেরু নামের একটি দেশের কথা ভূগোলের বইতে বা মানচিত্রে পড়ে বা দেখে থাকবে। এই দেশটির রাজধানীর নাম লিমা। তা প্রাচীন এই পেরুর উপকূলবর্তী অঞ্চলে কিছুদিন আগেই সেখানকার মাটি খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করছিলেন একদল জীবাশ্ম বিজ্ঞানী। তাদের উদ্দেশ্য মাটির তলা থেকে উদ্ভিদ বা প্রাণী জীবাশ্মের অনুসন্ধান কাজ চালানো। জীবাশ্ম বিজ্ঞানীদের এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন লিমা শহরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সান মারকোজ মিউজিয়াম অব নেচারাল হিস্ট্রির জীবাশ্ম বিজ্ঞানী অধ্যাপক রোডোলফো সালাস গিসমোন্ডি। এছাড়া দলটিতে ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস-এর অঙ্গব্যবচ্ছেদ বিশারদ জুলিয়া ক্লার্কে। মাটির তলায় এরা খুঁজে পান বহু প্রাচীন যুগের একটি জীবাশ্ম। জীবাশ্মটি থেকে ধূলিকণা সরিয়ে যখন এটিকে মোটামুটিভাবে সাফসুতরো করা হলো প্রথমটাতে কেউই বুঝতে পারেনি জীবাশ্মটি আসলে কার। বিজ্ঞানীরা ভাবছিলেন হয়তো অচেনা অনামি কোনো প্রাণীর জীবাশ্ম এটি। কিন্তু জীবাশ্মটিকে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ এবং মাপজোখ করার পর জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা নিজেরাই হতবাক। আরে এ যে নিপাট নিরীহ পেঙ্গুইনের জীবাশ্ম। জীবাশ্মটির নিয়ে বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক দ্বন্দ্বের কারণ শুনলে তোমরাও অবাক হবে। খুঁজে পাওয়া জীবাশ্মটি লম্বায় দেড় মিটার অর্থাৎ ৫ ফুট এবং এটি পরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মূল প্রাণীটির ওজন ছিল ৬০ কেজি। অর্থাৎ প্রায় একটা মানুষের কাছাকাছি সমান উচ্চতা ও ওজন। এবার একবার ভাবো তো টিভিতে বা ছবির বইতে আমরা যে পেঙ্গুইন দেখি তার সঙ্গে পূর্বপুরুষ এই জীবাশ্মটির কী বিস্ময়কর ফারাক। অর্থাৎ এই এটি আবিষ্কারের পর জানা গেল এখন আকারে অনেক ছোট হয়ে গেলেও প্রাগৈতিহাসিক যুগে পেঙ্গুইনের দল মোটেও দুবলা-পাতলা ছিল না। আরো একটা চমকপ্রদ তথ্য জানা গেছে। এখনকার দিনের মতো মোটেই সাদাকালো ছিল না অতীতের বৃহদাকৃতির পেইঙ্গুনের দল। বরং বেশ রঙিনই ছিল তারা। এদের পালকের রং ছিল লালচে খয়েরি। যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে দেহের আকার ও রং সবই বদলাতে হয়েছে সামুদ্রিক এই পাখির দলকে।

শামীম শিকদার

Read More

পেঙ্গুইন


পাখি, তবে উড়তে পারে না। অবশ্য প্রকৃতি তাদের এ অক্ষমতা পুষিয়ে দিয়েছে ভিন্নভাবে। ওরা দক্ষ সাঁতারু --তাড়া করে মাছ ধরে । হাঁটতে অপটু, তবে উবুড় হয়ে শুয়ে দুই হাতডানা নেড়েচেড়ে বরফের উপর দিয়ে এগিয়ে যায় । বুক পেট ধবধবে সাদা,বাকি শরীর কালো বা নীলচে। যারা পেঙ্গুইন(Penguin/Pygoscelis papua) নামে পরিচিত।দেখে মনে হয় সাদা দেহে কালো কোট পরা এক ভদ্রলোক। মূলত শীতপ্রধান দেশেই পেঙ্গুইনরা বাস করে। এদের বাস দক্ষিণ মেরুবলয়ের আশেপাশে। সবচেয়ে ছোট প্রজাতির পেঙ্গুইন(Pygoscelis antarctica) বাস করে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডে। এরা সবাই দিবাচর আর সমুদ্রবাসী। দাঁড়ানো অবস্থায় এদের উচ্চতা চার ফুট আর ওজন হয় ৪০ কেজির কাছাকাছি।পেঙ্গুইনরা জীবনের বেশিরভাগ সময় পানিতে কাটায়। ওদের শরীর ভারি হাড় দিয়ে গঠিত হওয়ায় ডাঙ্গার চেয়ে পানিতেই ওরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তবে মাটির ওপর যখন পেঙ্গুইনরা হেঁটে বেড়ায়, তখন অনেক দূর থেকে ওদের দেখা যায়। শরীরের সাদা আর কালো রঙ তখন দারুণভাবে ফুটে ওঠে।

তবে পানিতে নামলে এ রঙ অস্পষ্ট দেখায়। পানির ওপর থেকে তাকালে পেঙ্গুইনের কালো রঙ পানির আলো-আঁধারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়। ফলে পানির ভেতর পেঙ্গুইনরা মোটামুটি অদৃশ্য প্রাণী। বরফের ওপর চলাচলের সময় ওরা মাঝেমধ্যে পেটের ওপর ভর দিয়ে পিছলে নেমে যায়। এ সময় ওরা পেছনের পা দুটিকে বৈঠার মতো ব্যবহার করে। স্বভাবের দিক থেকে পেঙ্গুইন খুবই সামাজিক প্রাণী। এরা দলবদ্ধ হয়ে ঘুরে বেড়ায়। ডিম ও শিশু প্রতিপালনের মৌসুমে হাজার হাজার পেঙ্গুইন একসঙ্গে থাকে। ওদের পারিবারিক আচরণও বেশ আন্তরিক। ডিম দেওয়া থেকে শুরু করে বাচ্চা লালন-পালন কাজে পুরুষ আর স্ত্রী পেঙ্গুইন সমানভাবে অংশগ্রহণ করে। পায়ের উপর ডিম রেখে ডিমে তা দেয়। উপযুক্ত বাসস্থানের অভাব, নানা ধরনের দূষণে এ প্রাণীদের অস্তিত্ব হুমকির মুখোমুখি। আমাদের সবার ভালোবাসাই পারে এই সুন্দর পাখির প্রজাতিটিকে রক্ষা করতে।

নানা জাত-উপজাত আর পরিবারের উপর ভিত্তি করে ২২ প্রজাতির পেঙ্গুইন(Penguin) দেখা যায়।
বিস্তারিত:Wikipedia

Read More