25.5.12

ছোট বসন্তবাউরি

ছোট বসন্তবাউরি , কপারস্মিথ বারবেট (Megalaima haemacephala) বাংলাদেশের একটি অপূর্ব সুন্দর পাখি এবং এর বুদ্ধিমত্তাও চোখে পড়ার মত।
কপারস্মিথ বারবেট ওল্ডওয়ার্ল্ড বারবেটদের ফ্যামিলি Megalaimdae অন্তর্গত।

এই ছোট পাখিটি গাছের খোড়লে বাসা করে থাকে । কিন্তু কখনই নিজেরা গাছে গর্ত করে না। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া খোড়ল কিংবা অন্য পাখির ব্যবহৃত গর্তে এরা বাসা বানায় । তবে একাধিক প্রবেশপথ যুক্ত বাসা এরা নির্বাচন করে থাকে।
বসন্তবাউরি একটি ফলভুক পাখি। এরা সাধারনত একাকী কিংবা জোড়ায় বসবাস করে থাকে ।
মাঝে মাঝে এদের ছোট ঝাঁকেও দেখা যায়।

ছোট বসন্তবাউরি ছোট হলেও স্বজাতিদের মত এরও ডাক খুব উচ্চগ্রামের। অনেকটা এভাবে টুক......টুক.........টুক..................। চলতে থাকে।

আরন্যক আকাশ

Read More

22.5.12

লালখেনি

পাখিটির নাম ‘লালখেনি’। ইংরেজি নাম Ruddy-Breasted Crake। বৈজ্ঞানিক নাম porzana fusca। মাপ ২০-২১ সেন্টিমিটার। ওজন ৮০-১০০ গ্রাম।


সুন্দরবনসংলগ্ন জেলাগুলোর জলজ ঝোপঝাড়বহুল বিল-ঝিল-হাওরসহ যেকোনো জলাশয়-খেতে দেখা যেতে পারে এই পাখিটি। ফকিরহাট-বাগেরহাট-চিতলমারীসহ বাগেরহাট সদর উপজেলার জোড়া উত্তরের হাওরের আখঘাস, বন-নলখাগড়া, হোগলা, কেনি-হোগলা, হাজিবনসহ অন্যান্য জলজ ঝোপঝাড়ে এদের দেখা মেলে। দেখা মেলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের হাওরেও। খোদ সুন্দরবনেও দেখা মিলবে।

মোহনা-হ্রদের পারের ঝোপঝাড়েও এরা গেরিলা কৌশলে ঘুরে বেড়ায়। অতি সাবধানি, চতুর, ভীতু ও অতি চঞ্চল এক পাখি। বিপদ বা মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই নলখাগড়াসহ অন্যান্য বনের ভেতরে ঘাপটি মারবে। চুপচাপ থাকবে। ধৈর্য নিয়ে আড়ালে বসে অপেক্ষা করলে চকিতে এদের দেখা মিলবে। এই দেখা যায়, এই নেই! ডাকবে ভোরে অথবা সকালে, পাঁচ-সাতটি পাখি মিলে ‘কিরিচ কিচ’জাতীয় শব্দে ডাকবে। অন্য সময় চুপচাপ। শীতে রোদ পোহাবে। দুপুরে দোয়েল পাখির মতো অল্প জলে বুক-পেট ডুবিয়ে ডানা ঝাপটে গোসল করবে। খাবার নিয়ে প্রয়োজনে স্বজাতির সঙ্গে লড়াই করে। এ ক্ষেত্রে যুদ্ধংদেহী ভঙ্গিটা হয় খুবই উপভোগ্য।
মূল খাদ্য এদের কুচো চিংড়ি, জল-কাদা-শেওলা এবং পচা জলজ পাতার স্তূপে জন্ম নেওয়া ল্যাদা পোকা ও নলনাটা বনের ভেতরের ডানাওয়ালা একধরনের ছোট পোকা। এই পোকা ধরার জন্য এরা হাস্যকর লম্ফঝম্প দেয়। মশাও অতি প্রিয় খাদ্য এদের। এই পোকাগুলো বিকেল বা গোধূলিতে ঝোপঝাড় থেকে উড়ে উড়ে বের হয়। বড়শিতে ছোট চিংড়ি গেঁথে এদের শিকার করে অনেকেই—বিশেষ করে উত্তরের হাওরে।

এরা রাতে আশ্রয় নেয় নলখাগড়া-আখঘাসের মাঝামাঝি বরাবর, মাটিতে নয়। বাসা করে মাটির ওপরে—আখঘাসের পাতা ও অন্যান্য পাতা দিয়ে। ঝোপঝাড়, ঘাসবন, এমনকি ধানবনেও বাসা করে। ডিম ছয় থেকে আটটি। দুজনে তা দেয়। ডিম ফোটে ২০ থেকে ২৪ দিনে। বাসা করে বর্ষাকালে।

একনজরে শরীরের রং এদের পোড়া ইটের মতো। তাতে লালচে বাদামি রঙের আভা মাখানো। গলা সাদা। পেটের দুপাশে ও লেজের তলায় আড়াআড়ি সাদা-কালো সরলরেখা টানা—রঙের চমৎকার সমন্বয়। লেজের ডগা ঘন ঘন নাড়ে। মাথায় খোঁট মারে ঘন ঘন। দৌড় ও লম্ফ দিতেও ওস্তাদ। অহেতুক উত্তেজনায় ভোগে সারাক্ষণ।

শরীফ খান | প্রথম আলো

Read More

17.5.12

কমলা বউ

‘কমলা-মাথা থ্রাস’ (Orange-headed Thrush)এ দেশে ‘কমলা দামা’, ‘কমলাফুলি’ বা ‘কমলা দোয়েল’ ‘মেটে দোয়েল’ বা ‘কমলাবউ’ নামেও পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম Zoothera citrina।

কমলাবউ দোয়েল আকারের পাখি। লম্বায় ২১ থেকে ২২ সেন্টিমিটার। ওজন ৬০ গ্রাম। পুরুষ পাখির মাথার চাঁদি, ঘাড় ও বুকের রং গাঢ় কমলা। তাতে আছে হালকা হলুদের ছোঁয়া ও লালচে আভা। পেট ও লেজের নিচটা সাদা। পিঠ ও লেজের ওপরটা নীলচে-ধূসর। ডানার প্রান্তে রয়েছে কয়েকটি সাদা দাগ। স্ত্রীটি দেখতে পুরুষটির মতোই, তবে বুকের রং একটু ফিকে এবং পিঠ ও লেজ ছাইরঙা। স্ত্রী-পুরুষনির্বিশেষে ঠোঁট কালচে; পা ও আঙুল হালকা গোলাপি। মায়াবী চোখের মণি পিঙ্গল। বাচ্চাগুলোর রং গাঢ় ধূসর, তার ওপর কমলা ছোপ।

এরা বেশ লাজুক। মানুষের চোখের আড়ালে গ্রামীণ ঝোপ-জঙ্গল, বন-বাগান বা বাঁশঝাড়ের স্যাঁতসেঁতে নির্জন পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। প্রজননের সময় ছাড়া সাধারণত একাকী জোড়পায়ে ছোট ছোট লাফ দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। মাটিতে পড়ে থাকা পাতা উল্টে পোকামাকড়, কেঁচো ইত্যাদি খায়। ফলও খেতে পারে। ‘চিরি-চিরি-রিরি...ঝিরি বা কিরি-কিরি...কিরি-কিরি’ স্বরে ডাকে।
এপ্রিল থেকে জুন প্রজননকাল। এক থেকে পাঁচ মিটার উঁচু কোনো গাছের ঘন পাতাওয়ালা দুই ডালের ফাঁকে শুকনা পাতা, মস, ঘাস, সরু শিকড় ও মাটি দিয়ে চায়ের পেয়ালার মতো বেশ মজবুত বাসা বানায়। স্ত্রী কমলাবউ তিন-চারটি গোলাপি ডিম পাড়ে। তাতে থাকে নীলচে ও ফিকে আভা। আর সামান্য ছিট-ছোপ। ডিম ফোটে ১৪ দিনে। বাচ্চারা উড়তে শেখে ১০ দিনে।

আ ন ম আমিনুর রহমান|প্রথম আলো

Read More

6.5.12

বটকল

বটকল বড় আকারের জংলি কবুতর। লম্বায় ৩৩ সেন্টিমিটার। এদের দেহের ওপরের অংশের রং হালকা ধূসর-সবুজ। তবে মাথা ধূসর, কপাল ও গলা হালকা সবজে-হলুদ। ঘাড়ে লালচে ছোপ ও ডানায় সবুজাভ কালোর ওপর হলদে টান রয়েছে। বুকের নিচের অংশ, পেট ও তলপেট ধূসর। কাঁধে এক ফালি হালকা বেগুনি রং। লেজের ওপরের অংশের গোড়ায় জলপাই-হলদে বলয় থাকে। চোখের আইরিশের ভেতরের বলয়টি নীল ও বাইরেরটি গোলাপি। ঠোঁটের রং হালকা সবুজাভ। পা ও পায়ের আঙুল চকচকে হলুদ। পুরুষগুলো স্ত্রীগুলোর চেয়ে কিছুটা বড় ও উজ্জ্বল। বাচ্চারা দেখতে অনেকটা বড়দের মতো। তবে বড়গুলোর মতো কাঁধের বেগুনি রঙের ফালি চোখে পড়ে না।

এরা মূলত আর্দ্র পাতাঝরা বন, কৃষিজমি, বাগান প্রভৃতি এলাকায়, যেখানে ছোট ছোট নরম ফলের গাছ, যেমন-বট, পাকুড়, খোকসা, জগডুমুর, উড়ি আম, বকুল, বউলা গোটা ও এজাতীয় গাছ আছে সেখানে বাস করে। সাধারণত ৫-২০টির ঝাঁকে দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে এদের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। এরা সকাল ও সূর্যাস্তের সময় খাদ্য সংগ্রহে বেশ তৎপর থাকে।
মার্চ থেকে জুন বটকলদের প্রজননকাল। বনের ঘন পাতা সন্নিবেশিত গাছে ও গ্রামের ঘন গাছপূর্ণ এলাকার গাছে কয়েকটি কাঠিকুঠি জড়ো করে ছোট্ট ও হালকা ধরনের বাসা বানায়। পায়রী তাতে চকচকে সাদাটে দুটো ডিম পাড়ে। ডিমে পুরুষ-স্ত্রী উভয়েই তা দেয়। বাচ্চা ফুটলে পুরুষ-স্ত্রী দুজনেরই গলার নিচের থলিতে (Crop) উৎপন্ন ‘পায়রার দুধ (Pigeon Milk)’ খাইয়ে এদের বড় করে তোলে।
বটকল এ দেশে হরিতাল, বড় হরিয়াল, হলদে পা হরিয়াল বা হলদে পা সবুজ কপোত নামে পরিচিত। ইংরেজি নাম Yellow-footed বা Yellow-legged Green Pigeon। বৈজ্ঞানিক নাম Treron phoenicoptera। এদের পাঁচটি উপ-প্রজাতির মধ্যে এ দেশে শুধু Treron phoenicoptera phoenicoptera উপ-প্রজাতিটির দেখা মেলে।

আ ন ম আমিনুর রহমান | প্রথম আলো

Read More

বাদামি পেঁচা

Brown Hawk Owl (Ninox scutulata)... a pair
এক নজরে লালচে ও গাঢ় বাদামি রঙের এক সুন্দর পেঁচা এটি। চোখের মণি স্ফটিক-গোলাপি, মণি ঘিরে অতি সুন্দর হলুদ রঙের বৃত্ত। বুক-পেট সাদাটে-ছাই, তার ওপর লালচে বাদামি রং মেশানো ও সুন্দর ছোপ আঁকা। পা হলদেটে, নখ কালো। লেজের তলায় পাশাপাশি তিনটি করে চওড়া কালো দাগ আঁকা।

বাংলাদেশের অন্য পেঁচাদের তুলনায় এদের মাথা ছোট। শরীরের গড়ন-ধরনও ছোট শিকারি বাজপাখির মতো। বাজের মতো ক্ষিপ্র গতি, ছোঁ দিতেও অত্যন্ত দক্ষ এবং তুখোড় শিকারি। এ জন্য ইংরেজিতে এদের নাম Brown Hawk Owl. বৈজ্ঞানিক নাম Ninox Scutulata. আকার ৩৫ সে.মি.। উড়ন্ত শিকারকে এরা পাকড়াও করতে পারে দর্শনীয় ভঙ্গিতে। সাহসী, বুদ্ধিমান ও তীক্ষ� দৃষ্টিসম্পন্ন এই পাখি অতিশয় ধুরন্ধরও বটে। মূল খাদ্য এদের ধেনো ইঁদুরের বাচ্চা, গেছো ইঁদুর, তক্ষক, ছোট পাখি, ব্যাঙ, ঢোঁড়া ও মেটে সাপের বাচ্চাসহ অন্যান্য পোকামাকড়।
বাদামি পেঁচা ঢাকা শহরে আছে। দিনে এরা সাধারণত ঘন পাতাওয়ালা গাছের ডালে চুপচাপ বসে ঘুমায়-ঝিমায়। লতাজাতীয় ফুল গাছের ঘন পাতার আড়ালেও থাকে। ঢাকা শহরে আমি এদের বাসা বেশ কয়েকবার দেখেছি, দেখেছি ডিম-ছানা। ডিম পাড়ে তিন-চারটি। একটু গোলাকার ধরনের। রং খড়িমাটির মতো সাদা। সদ্যজাত ছানারা হয় কার্পাস তুলার মতো সাদা। ছানাদের চোখ ফোটে ৬-১০ দিনে। বাসায় ডিম বা বাচ্চা থাকলে ভেতরে থাকা মা-পাখিটি দুই ঠোঁটে ‘কিট্ কিট্’ আওয়াজ করে শত্রুকে ভয় দেখায়। চোখ ফোটার পর ছানারাও এভাবে ভয় দেখায় শত্রুকে।
Brown Hawk Owl (Ninox scutulata)... a pair
এদের কণ্ঠস্বর ভীতিকর। ‘কু-উক্, কুক্, কু-উক্, কুক্’ শব্দে থেমে থেমে ডাকে। বিখ্যাত বাঘশিকারি জিম করবেটের ভাষায় বলতে হয়, ‘মনে হয়, কোনো মৃতের আত্মা তার দেহ ফিরে পাওয়ার জন্য বিলাপ করছে।’ হ্যাঁ, ডাকটা ভৌতিক। শৈশবে আমাদের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের সাতশৈয়ায় রাতে ওদের ডাক শুনতাম। এখনো—৫০ বছর বাদে—বাড়িতে গেলে ওদের ডাক শুনতে পাই। নিজেকে বড়ই ভাগ্যবান মনে হয় এ জন্য। ওদের ডাক আমার কাছে আজ আর মোটেও ভীতিকর নয়, আমার কানে এসে বাজে রাতের স্মৃতি হয়ে। টিকে থাক পাখিটি মানুষের বন্ধু হয়ে, প্রকৃতির অতি আপনজন হয়ে।

-লিখেছেনঃ শরীফ খান

Read More

ছোট ভরাউ

বসতবাড়ির বাগানের যে অংশে মানুষের চলাচল কম, সেখানে গাছের ডালে চুপচাপ বসে আছে কমলা রঙের পালকে আবৃত এক পাখি। চলাফেরায় অচঞ্চল। লাজুকও বটে।

পাখিটির নাম করুণ পাপিয়া। পাঠ্যপুস্তকে আরেকটি নাম আছে তার—ছোট ভরাউ। ঘন গাছপালার বাগান, কৃষিজমি, খামার, মাঠে বিচরণ করে। দেশের সব বিভাগেই এর দেখা মেলে। ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাখিটির বসবাস। ইংরেজি নাম Plaintive Cuckoo। বৈজ্ঞানিক নাম Cacomantis merulinus।
পুরুষ পাখির পিঠের পালক ধূসর আর বুকের পালক কমলা রঙের। মাথা, ঘারের পাশ ও গলা ছাই-ধূসর। মেয়ে পাখির চেহারা দুই ধরনের। এক ধরনের চেহারা পুরুষ পাখির মতো। উভয় পাখির চোখ সাদা, পা বাদামি হলদে। প্রজননসময় পুরুষ পাখি মিষ্টি সুরে ডাকে। প্রধানত, একাকী; তবে জোড়ায়ও ঘুরে।


ছারপোকা, শুঁয়োপোকা আছে এ পাখির খাবার তালিকায়। বাসা তৈরি, ছানা লালন-পালন ও ডিম ফোটানোর কোনো কাজই এরা করে না। মেয়ে পাখি অন্য পাখির বাসায়, বিশেষ করে প্রিনা, টুনটুনির বাসায় ডিম পাড়ে। ডিমের রং পালক সাদা থেকে ফিকে নীল। ছানার পালকমাতারাই খাওয়ায়, বড় করে তোলে। এটা সত্যিই করুণ। আপন মা-বাবার আদর-যত্ন পায় না এরা। একদিন আত্মনির্ভরশীল হলে বনে ফিরে যায়।
Cacomantis merulinus
- সৌরভ মাহমুদ

Read More

নীলশির

কপালেই টিপ দেওয়ার রেওয়াজ। কিন্তু ওপরের ছবিটিতে দেখুন, তার টিপটি কপালে নয়। ঠিক চাঁদির ওপরে। তাতে প্রসাধনের ব্যাকরণ হয়তো লঙ্ঘিত হলো, কিন্তু রূপের খোলতাই যে হয়েছে চোখ জুড়ানো, তা না মেনে উপায় কী? ওর নাম ‘নীলরাজা’। কেবল এমন নামই হয়তো ওকে মানায়। রং বলতে যদিও ওই নীল আর কালো, সঙ্গে একটু সাদার ছোঁয়া। তাতেই আমাদের দেশের সুন্দর পাখির তালিকায় নীলরাজার স্থান প্রথম সারিতে।
পাখিটির গলা, পিঠ ও বুক ঝলমলে নীল রঙের পালকে মোড়া। পেটের নিচে আর পাখনার কয়েকটি পালকে সাদা বা হালকা বাদামি আভা। গলায় একটি গাঢ় কালো রেখা। সবচেয়ে আশ্চর্য সুন্দর তার মাথার ওপরে ওই গোল টিপের মতো কালো বৃত্তটি। এই বৃত্তের কালো পালকগুলো দেখতে অন্য রকম—মখমলের মতো উজ্জ্বল, কার্পাস তুলার মতো কোমল। পা ও ঠোঁট নীলচে। ঠোঁটের ওপর যেন হালকা একটু গোঁফের রেখা। কালো রঙের। চোখ দুটিও দুটি কালো বিন্দু। সব মিলিয়ে নীল-কালো-সাদার এক দুর্দান্ত ‘কম্পোজিশন’। তবে ছবির নীলরাজাটি পুরুষ। স্ত্রী পাখির মাথায় ওই কালো টিপটি থাকে না, রংও খানিকটা নিষ্প্রভ। কী আর করা, পক্ষীকুলে স্ত্রীর চেয়ে পুরুষগুলোই অধিক দর্শনধারী, এটাই প্রকৃতির নিয়ম!
নীলরাজা দেশের অনেক এলাকায় ‘নীল কটকটিয়া’ বা ‘ছোট লেজনাচুনে’ বলেও পরিচিত। অনেক অঞ্চলে এর কোনো নামই নেই। চট করে এদের দেখা পাওয়া যায় না। খোলামেলা জায়গা তেমন পছন্দ নয়—এই কারণে। বাঁশঝাড় ও গাঢ় ছায়াময় গ্রামীণ বন-বাগান এদের প্রিয়। এর ইংরেজি নাম ব্ল্যাক-নেপ্ড মনার্ক বা Black-naped Blue Flycatcher, বৈজ্ঞানিক নাম হাইপোথাইমিস আজুরিয়া (Hypothymis Azurea)। আকার ছোটখাটো, ১৫-১৬ সেন্টিমিটার মাত্র।
কিছুটা দুর্ভাগ্যই বলতে হবে, দেখতে সুন্দর হলেও নীলরাজার কণ্ঠস্বর তেমন নয়। বরং তীক্ষ্ণ, কর্কশ। সে কারণেই হয়তো নাম হয়েছে কটকটিয়া। তবে যেমন সাহসী, তেমনি উপকারী।
IMG_4173
পাখি পর্যবেক্ষক শরীফ খানের কাছে জানা গেল, নীলরাজা দেশের সব অঞ্চলে নেই। তবে যেসব এলাকায় বন-বাগান বেশি, সেখানে আছে পর্যাপ্ত সংখ্যায়। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, বগুড়া—এসব এলাকায় তুলনামূলক বেশি দেখা যায় এদের। পোকামাকড় প্রধান খাদ্য। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে উড়ন্ত পোকামাকড় ছোঁ মেরে পেটে পুরে ফেলে। নীলরাজার এভাবে শিকার ধরার দৃশ্যটি দেখার মতো। এরা বিশেষত আম, কাঁঠাল, আতা, নারকেল, ডুমুর, লেবু, পেয়ারা, গোলাপজাম—এসব ফলগাছে থাকা পোকামাকড় দিয়ে ভোজনপর্ব সমাধা করে বলে গ্রামীণ বন-বাগানের মৌসুমি ফলফলাদি অনেকটাই নিরাপদে বেড়ে ওঠে। এতে যে মানুষের বিপুল উপকার হয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অথচ এমন উপকারী প্রাণী পাখিদের আজ বড়ই দুর্দিন।
黑枕藍鶲-002
প্রকৃতি ও পরিবেশের নিরন্তর বিনাশ ঘটে চলেছে আমাদেরই হাতে। পাখপাখালির থাকার ঠাঁই আর খাদ্য উভয়ই কমে যাওয়ায় তাদের অনেকেই আজ বিপন্ন। কিন্তু পাখিদের বাঁচতে না দিলে প্রকৃতির গান থেমে যাবে, আর বিরূপ প্রকৃতির রোষ বিপন্ন করে তুলবে মানুষের অস্তিত্বও।
Asian Paradise Flycatcher and Black-naped Monarch painting
- আশীষ-উর-রহমান

Read More

বড়ঠোঁট চুটকি

এই পাখির ইংরেজি নাম Largebilled Warbler থেকে বাংলায় ‘বড়ঠোঁট চুটকি’ নাম রাখা হয়েছে। পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Acrocephalus orinus। মেটে রঙের এ পাখির ওজন ১০ গ্রাম। পাখিটি পরিযায়ী। এরা গায়ক শ্রেণীর বিলুপ্ত প্রায় পাখির একটি জাত।
গত ১০ বছরে থাইল্যান্ডে দুবার এ প্রজাতির দুটি পাখি দেখা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে এর আগে কোথাও এ পাখি দেখা যায়নি। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের ‘বাইক্কা বিল অভয়াশ্রমে’ গবেষণার জন্য বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের গবেষক দলের পাতা ফাঁদে ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এ পাখি ধরা পড়ে। বাংলাদেশের নামাঙ্কিত রিং পাখিটির পায়ে পরিয়ে ধরা পড়ার আধঘণ্টার মধ্যেই বিলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Read More

তিলা মুনিয়া

তিলা মুনিয়া (Scaly-breasted Munia)। বৈজ্ঞানিক নাম Lonchura punctulata.। এ দেশের শহর-বন্দর-গ্রামে প্রচুর দেখা যায়। লম্বায় ১১.৫ সেন্টিমিটার। মাথা থেকে লেজের ডগা জলপাই-বাদামি। চিবুক গাঢ় রঙের। বুকের ওপরটা খয়েরি। পেট কালচে-বাদামি, তাতে সাদা ফোঁটা থাকে। স্ত্রী-পুরুষ একই রকম। মুনিয়া বেশ চঞ্চল।
ফসলের খেত, মাঠ, নলখাগড়ার বন, বাগান প্রভৃতি স্থানে ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ে বেড়ায়। এদের ঠোঁট খাটো ও বেশ শক্ত। ধান বা অন্যান্য শস্যদানা মুখে রেখেই তা থেকে শক্ত খোসা ছাড়িয়ে নিতে পারে। ঘাসবীচি ও কীটপতঙ্গও খায়। মে-সেপ্টেম্বর প্রজননকাল। খেজুরগাছের পাতার আড়ালে, লতার ঝোপে, বাবলা, ঝাউ, কেয়া, কান্তা, দেবদারু প্রভৃতি গাছে গোলাকৃতির বাসা বোনে। ঘাস-লতা-ধানের পাতা দিয়ে সুন্দর, নরম ও তুলট বাসাটির ভিত্তি রচনা করে। কাশফুল দিয়ে চারপাশটা মুড়ে নেয়। বাসার ভেতরে থাকে কাশফুলের গদি। বাসায় ঢোকার জন্য গোপন সরু পথ বানায়, যেন শত্রুরা না দেখে। বশেমুরকৃবিতে বিল্ডিংয়ের কার্নিশের নিচে ও টোনারের খালি কার্টনে বাসা বানাতে দেখেছি। স্ত্রী মুনিয়া চার থেকে আটটি ধবধবে সাদা ডিম পাড়ে। স্বামী-স্ত্রী মিলে ১৩ থেকে ১৫ দিন তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়।
Scaly-Breasted Munia II
শহুরে মানুষের কাছে পোষা পাখি হিসেবে মুনিয়া বেশ জনপ্রিয়। খাঁচাবন্দী মুনিয়া রাস্তাঘাট ও ‘পটশপে’ দেদার বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিক্রেতারা এদের গায়ে নীল, হলুদ, সবুজ বা উজ্জ্বল রং লাগিয়ে দেয়, যা গোসল করালেই উঠে যায়। গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এদের জাল দিয়ে ধরে টঙ্গী, ঢাকার কাঁটাবন ও অন্যান্য স্থানে বিক্রি করা হয়। ফলে একদিন হয়ত সহজলভ্য এই পাখিগুলো হারিয়ে যাবে।
Scaly-Breasted Munia
আ ন ম আমিনুর রহমান

Read More

5.5.12

বাংলা বুলবুল

বাংলা বুলবুলির শান্ত মেজাজটা শুধু চোখে পড়লেও এদের লড়াকু স্বভাবেরও ঐতিহ্য আছে। একসময় এরা রাজা বাদশা ও বাবুদের পোষা পাখি ছিল সে।
একসময় বছরের বিভিন্ন সময় তাদের ট্রেনিং দেওয়া হত প্রতিযোগিতার জন্য। কলকাতার বাবুদের ঘুড়ি উড়ানো আর বুলবুলি লড়ায় খুবই উপভোগের একটা বিষয় ছিল আগের দিনে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বহু লোকের সমাগমে বুলবুলির লড়াই হতো। যার বুলবুলি লড়াই-এ জিতলে সে পেতো মোটা অংকের পুরষ্কার। মোঘল আমলে এই প্রচলনটা বেশ ছিল।
বাংলা বুলবুল আমাদের দেশের সর্বত্রই দেখা যায়। প্রাণবন্ত স্বভাবের এ পাখিটির ঠোঁট, মাথা, চূঁড়া ও গলা কালো। পেট সাদা ও নিতম্ব ছাড়া দেহের বাকী অংশ হালকা খয়েরি। লেজের গোড়ার উপরের অংশ সাদা এবং নিচের অংশ লাল। লেজটা পাখির তুলনায় লম্বায় বলা যাবে। লেজের রং কালো।
এপ্রিল-আগষ্ট মাসে এরা চিকন ঘাস দিয়ে বাটির মতন বাসা বানায়। ২-৪টি ডিম দেয়। সংসার পরিচালনায় স্বামী-স্ত্রীর সমান দরদ।
এর ইংরেজী প্রতিশব্দ Bangla Bulbul বা Bengal Bulbul

Read More